মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে প্রতিকেজি চাল ১০ টাকায় দিবে সরকার


প্রকাশন তারিখ : 2016-09-07

খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি

জননেত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ নিম্নমধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। উন্নয়নের এ পথ পরিক্রমায় দেশে দারিদ্রের হার ১৯৯৬ সালের ৫০.১% থেকে ২০১০ সালে ৩১.৫০% এ নেমে আসে। বর্তমানে এ দারিদ্রের হার ২৪%। সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার অভিযাত্রায় টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ (SDG) অর্জনের দৃঢ় অঙ্গীকার ঘোষণা করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা শূন্যে এবং দারিদ্রের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

২।         বর্তমানে গ্রাম ও শহরের মাঝে দারিদ্রের হারে পার্থক্য লক্ষণীয়। অতিদ্ররিদ্র মানুষের হার ২০১০ সালে জাতীয়ভাবে ছিল ১৭.৬%। তখন শহরাঞ্চলে তাদের হার ছিল ৭.৭%; কিন্তু পল্লি অঞ্চলে তা ছিল ২১.১%। উচ্চতর দারিদ্র সীমার ক্ষেত্রেও অনুরূপ উপাত্ত দেখা যায়; জাতীয় ৩১.৫% এর বিপরীতে শহরে ২১.৩% এবং গ্রামাঞ্চলে ৩৫.২%। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে নারী ও শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সমস্যা আরও প্রকট। অর্থনৈতিক কর্মকান্ডসহ সামাজিক খাতের সুযোগ-সুবিধা গ্রামাঞ্চলের চেয়ে শহরে বেশি থাকায় দরিদ্র মানুষ দলে দলে শহরমুখী হচ্ছে। ফলে শহরাঞ্চলের সীমিত নাগরিক সুযোগ-সুবিধার উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

৩।         শহরমুখী এ জনস্রোত রুখতে যে সব কর্মসূচি চালু আছে সেগুলো এখন সেকেলে প্রতিপন্ন হচ্ছে। বিনামূল্যে খাদ্যশস্য বিতরণ কর্মসূচিগুলো মানুষের আত্মমর্যাদাবোধ যেমন ক্ষয়িষ্ণু করছে, তেমনি এগুলোর ব্যবস্থাপনাতেও অদক্ষতা ও ঘুণ বাসা বেধে ফেলেছে। অপরদিকে নতুন করে যে National Social Security Strategy (NSSS) প্রণয়ন করা হচ্ছে, তাতে ত্রাণ খাতের খাদ্য সহায়তাভিত্তিক কর্মসূচিগুলোকে অর্থভিত্তিক কর্মসূচিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে কৃষকদেরকে তাদের পণ্যের প্রণোদনামূলক মূল্য দিতে গিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় যে খাদ্যশস্য সংগ্রহ করছে, তা চক্রায়ন করার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

৪।         এ প্রেক্ষাপটে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ (SDG) অর্জন, কৃষকদেরকে পণ্যের প্রণোদনামূলক মূল্য প্রদান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নারী ও শিশুর পুষ্টির উন্নয়ন সাধন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং গ্রাম ও শহরে সমাজের মাঝে বিরাজমান আয় বৈষম্য হ্রাসকরণের উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ তথা ব্রান্ডিং কর্মসূচি হিসেবে ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্রদের জন্য ‘‘খাদ্য বান্ধব কর্মসূচি’’ চালু করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এ কর্মসূচির জন্য একটি মাননসই স্লোগান দেয়া হয়েছে; ‘‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’’

৫।         এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারকে বছরের কর্মাভাবকালীন দু’ই প্রান্তিকে যথাঃ সেপ্টেম্বর-নভেম্বর এবং মার্চ-এপ্রিল মোট ০৫ (পাঁচ) মাসব্যাপী প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল সেলাই করা বস্তায় সরবরাহ করা হবে। দারিদ্র সূচকের ভিত্তিতে উপজেলাওয়ারী চিহ্নিত অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে এ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী প্রধান পরিবার এবং শিশু ও প্রতিবন্ধি বিশিষ্ট পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

৬।         এ কর্মসূচিতে প্রতিকেজি চাল ১০/- টাকায় সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। ইউনিয়নভিত্তিক ডিলারদের দ্বারা প্রধান প্রধান হাট-বাজারে অবস্থিত দোকান থেকে কার্ডের মাধ্যমে এ খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হবে। এতে প্রতিটি পরিবার গড়পরতা মাসে ৮৬০/- টাকার সুবিধা প্রাপ্ত হবে।

৭।         এ কর্মসূচিতে বছরে ৭.৫০ লাখ মেঃ টন চালের প্রয়োজন হবে। এতে বছরে সরকারের ভর্তুকির মাধ্যমে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ২,১৪৪.৭৮ কোটি টাকা।


Share with :